সিসি নিউজ।। খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের এক যাত্রীকে জুস পান করিয়ে অজ্ঞান করে হাতিয়ে নেয় টাকা ও মোবাইল সেট। এ সময় ট্রেনে টহলরত রেলওয়ে পুলিশ বিষয়টি আঁচ করতে পেয়ে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা ফুল মিয়াকে (৫৬) আটক করেন। তাঁর দেহ তল্লাশি করে উদ্ধার হয় টাকা ও মোবাইল সেট।
আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশ ওই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত এখনো ওই ভুক্তভোগীর জ্ঞান ফিরেনি বলে জানান রেলওয়ে থানা পুলিশ। তবে তাঁর উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বজনদের ঘটনার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা ফুল মিয়ার বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আবদুল্লাপুরে। আর ভুক্তভোগী যাত্রী হলেন ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার হেলাফেলা গ্রামের ব্যবসায়ী হাজী মফিজুর রহমান।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ বগির ৩৪ নম্বর সিটের যাত্রী ছিলেন হাজী মফিজুর। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশন পার হওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেললে টহলরত পুলিশের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক পাশের যাত্রী ফুল মিয়াকে আটক করে তার দেহ তল্লাশিতে ভুক্তভোগীর টাকা ও মোবাইল পাওয়া যায়। অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা ফুল মিয়া জানায়, আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তাকে জুস পান করান তিনি। এতে ভুক্তভোগীরা অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁর টাকা ও মোবাইল হাতিয়ে নেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, এ ঘটনায় রেলওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অজ্ঞান পার্টির সদস্য ফুল মিয়ার নামে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির জ্ঞান ফিরলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট এই সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের দুই নারী যাত্রীকে (মা-মেয়ে) জুস পান করিয়ে অজ্ঞান করে তাঁদের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেয়। এ সময় পাশের যাত্রী ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে হাতেনাতে অজ্ঞান পার্টির সদস্য ফুল মিয়াকে আটক করেন। পরে যাত্রীরা ফুল মিয়ার কাছে থাকা জুস যাচাই করতে তাঁকে পান করালে তিনি নিজেও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ওই ভুক্তভোগী যাত্রীরা ছিলেন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের রশনী রায়ের স্ত্রী কৌশিলা রায় (৫৩) ও মেয়ে বীথি রানী (২৯)। ওই ঘটনায় কৌশিলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্রনাথ রায় নিজে বাদী হয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।